শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক:: ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক নবাবগঞ্জে বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শণে এসে বিগত সরকার আমলে অনিয়ম দুর্ণীতির বিস্তর অভিযোগ পেলেন। তারা একই স্থানে দুটি মার্কেটে প্রায় তিন শতাধিক দোকান বরাদ্দের অনিয়ম প্রত্যক্ষ করলেন। বছরের পর বছর দোকানের কোনো ভাড়া বা ইজারা না দিয়ে এসব দোকান মালিকরা ব্যবসা করছেন বলে জানা গেছে। কারো কাছেই নেই কোনো কাগজপত্র।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১২ টা থেকে বিকেল সাড়ে তিনটা পর্যন্ত স্থানীয় এমপি খন্দকার আবু আশফাককে সঙ্গে নিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ জেলা পরিষদের নানা প্রকল্প ঘুরে দেখেন। এসময় তাঁরা জেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত নবাবগঞ্জ জেলা পরিষদ বিপনী বিতান ও নিউ জেলা পরিষদ মার্কেটে ঘুরে দেখেন। এসময় বিভিন্ন দোকানীকে তারা জানতে চাইলে কেউই স্থায়ী বরাদ্দপত্র দেখাতে পারেননি। এমনকি প্রতি বছরের ইজারা বাবদ জেলা পরিষদকে কোনো টাকা দেয়ার রশিদও দেখাতে পরেনি।
এসব অনিয়ম দুর্নীতির বিষয়ে জেলা পরিষদ প্রশাসক ফেরদৌস মুরাদ সাংবাদিকদের বলেন, বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার আমলে তাঁদের দোসরা জেলা পরিষদের এসব দোকান নামে বেনামে দখল করেছে। তারা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার প্রভাবে এসব করেছে। ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের কাছে থেকে ওই সব দুর্নীতিবাজ দখলদাররা ভাড়া ও অগ্রীম টাকা নিলেও জেলা পরিষদের পাওয়া বুঝিয়ে দেয়নি। এ বিষয়ে খুব দ্রুত দুদকে অভিযোগ করে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পরিদর্শন শেষে ঢাকা-১ (দোহার নবাবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক বলেন, কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রশ্রয় দেয়া হবে না। জেলা পরিষদের সম্পত্তির উপর নির্মিত প্রায় তিন শতাধিক দোকানের বরাদ্দে যে অনিয়ম হয়েছে সে বিষয়ে প্রতিষ্ঠান আইনে ব্যবস্থা নিবে শীঘ্রই। যারা দোকানের ভাড়া আদায় করেছে তাঁদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দলীয় প্রভাবে দখল হওয়া দোকানগুলো ক্ষুদে ব্যবসায়ীদের মাঝে বরাদ্দ দিতে তিনি প্রশাসককে অনুরোধ করেন।
সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক এসময় নাববগঞ্জ ডাকবাংলো পরিদর্শন করে সেখানে আধুনিক মানের একটি অতিথিশালা নির্মানের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। এসময় জেলা পরিষদ প্রকৌশলী একটি নকশা করা ডিজাইনও প্রদর্শন করেন।
এবিষয়ে নিউ জেলা পরিষদ মার্কেটের বণিক সমিতির সভাপতি রবিউল ইসলাম বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে তারা ভাড়াটিয়া হিসেবে ঠিকই টাকা পরিষদ করেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক নেতাদের নামে দোকানের বরাদ্দ হলেও কেউ টাকা দিয়ে স্থায়ী বরাদ্দপত্র নেয়নি। তিনি ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সে বিষয়ে এমপি ও প্রশাসকের প্রতি বিবেচনার আহবান জানান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলার ইউএনও দিলরুবা ইসলাম, দোহারের ইউএনও মাইদুল ইসলাম, নিবার্হী ম্যাজিষ্ট্রেট আসিফ রহমান, সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি, যুবদল ছাত্রদলের জেষ্ঠ্য নেকৃবৃন্দ প্রমুখ।